নিজভূমে পরবাসী

ছোটগল্প   (বাস্তব-আঙিনায় কল্পনা-শৈলীতে)
 নিজভূমে পরবাসী  – হরবিলাস সরকার

হে ঈশ্বর, এখন আমরা কোথায় যামু? তুমি  ঠিকানা বইলা দাও। এই রেতের বেলায় বড় মাইয়ারে লইয়া খোলা আকাশের নিচে প্রহর গুণতেছি। এই বুঝি আমাগো কপালে লিখন ছিল!

মিনতি, ঈশ্বরের দোষ দিওনা। মানুষের ভাগ্য মানুষেই লেখে। মিঞারা আইসা আমাগো উপর ঝাঁপাইয়া পড়ল। মইরাও বাঁইচা আছি। জানিনা, আর কতক্ষণ! মাইয়াটারে বাঁচাইতে পারবো কি?

বাহাদুরপুরের ভিটামাটি ছাইড়া আমরা বুঝি দোনারকান্দি গ্রামের কাছাকাছি আইসা পড়িছি। ওরা যদি এখানে আইসাও ঝাঁপাইয়া পড়ে, তা হইলে? ওগো! আমার যে ভয় করছে।

মনে তোমার কী চলতেছে, বুঝতেছি। সূর্য ডুবতেই যেভাবে মিঞারা সদলবলে আইসা কইল, এইডা মুসলমানগো দেশ, হিন্দুগো এইখানে জায়গা নাই। তারপর ‘আল্লাহ্ আকবর’, বইলা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করতে লাগল, আগুন ধরাইয়া দিল, মাইয়া-বউগো সম্মান নষ্ট করতে লাগল, তাতে ভয় তো আমারও পাইতেছে। পেছনের দরজা দিয়া বাইর হইয়া বাঁশবাগান, ধান খেতের মধ্য দিয়া যদি পলাইয়া না আসতাম, কী যে হইত, কে জানে! গা আমার কাঁপতিছে।

পোলাটার চোখে ঘুম ধরছে। কিছুই তো আনতে পারি নাই। কী খাওয়াইমু, কীসের উপর ঘুমাইতে দিমু? হে ঠাকুর! পথ দেখাও তুমি।

কামিনী চমকে ওঠে। মা, চুপ কর,শুনতেছো, কাদের পায়ের শব্দ! মনে হইতেছে, এই বটতলার দিকেই আইতেছে।

বাবা সাহস যোগায়, ভয় নাই মা, আমার জীবন থাকতে তোগোর ক্ষতি হইতে দিমুনা।

ছোট্ট শিবুর চোখের ঘুম উধাও হয়ে গেল। মাকে জড়িয়ে ধরল। কাঁদতে পারছে না।

না, জেহাদী নয়, দুটো পরিবার। ওরাও বটগাছের নিচে এসে দাঁড়ালো। এখানে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছে। এ যে স্বজন হারানো আর্তনাদ।

কামিনী বলল, দেখো তো মা, ওরা কারা?

মা বুঝতে পারল, পশ্চিম পাড়ার সুকুমার আর লালচাঁদের পরিবার। সুকুমার, তোমার বউ কী বলছে? তোমার মাইয়া কোথায়? লালচাঁদের বউয়ের কী হইল? ওর বড় ছেইলার কী হইল?

বৌদি? বৌদিগো, জেহাদীরা আমাগো মারধর কইরা ঘরবাড়ি জ্বালাইয়া দিয়াছে। আমার বড় মাইয়া, লালচাঁদের বউকে টানতে টানতে লইয়া গেছে। ওর বড় ছেইলা বাঁধা দিয়াছিল। গুলি কইরা মাইরা ফেলাইছে। বইলা গেছে, আবার আইবে। জায়গা-জমি আর আমাগো নাই। সবই ওগোর হইয়া গেছে। প্রাণের ভয়ে এই বটতলায় পলাইয়া আইলাম। মেজো মাইয়াটারেও  হারাইব কিনা, ভয় করছে। লালচাঁদেরও বড় মাইয়া আছে।

কামিনীর বাবা একরাশ আতঙ্ক নিয়ে বলল,  তোমরা আর সর্বনাশ যদি না চাও, চুপ করো। মনের দুঃখ মনে চাঁইপা রাখো। চাইয়া দেখ, টর্চ জ্বাইলা কারা আইতেছে!

যতীনদা, এত সর্বনাশের পরেও চুপ থাকুম কেমন কইরা? এবার আমাগোও মরণটাই বাকি। তা যদি হয়, হউক। সুকুমারের বউ ‘সাবিত্রী’ও বলল, হঁয় দাদা, সবই যখন চইলা গেল, আর কী থাকলো? এখন আমরা মরতেও রাজি আছি। লালচাঁদেরও একই কথা।

এমন সময় দু’জন সাধু গোছের লোক এসে সামনে দাঁড়ালো। টর্চের আলোয় সবাইকে দেখল। যতীন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। না, এনারা জেহাদী নয়। জিজ্ঞেস করল, আপনারা কারা?

একজন বললেন, ভয় নাই দাদা-ভাইরা। আপনাদের কান্না শুইনা না আইসা পারলাম না। বুঝতে পারছি, আপনাগো মর্মান্তিক কিছু একটা ঘইটা গেছে। যদি কিছু মনে না করেন, খানিকটা দূরেই বাবা বিশ্বনাথের মন্দির, আমরা মন্দিরের পুরোহিত, চাইলে ওখানে গিয়া আশ্রয় লইতে পারেন। দোনারকান্দির মানুষেরা জড়ো হইয়া মন্দির পাহারা দিতেছে। সকলে প্রতিজ্ঞা কইরাছে, প্রাণ থাকতে ওরা মন্দির, মানুষজনের কোন ক্ষতি হইতে দিবে না। এই বটতলার চাইতে নিরাপদেই থাকবেন।

সহকারী পুরোহিত বললেন, বরিশালের এই একটাই গ্রাম, একাত্তরের যুদ্ধে পাকিস্তানি মিলিটারিরাও আইসা এখান থেইকা ফিরা যাইতে পারে নাই।

সুকুমার, লালচাঁদ কিছুতেই রাজি হইল না। যতীন পরিবার নিয়ে চলে গেল।

গভীর রাতে দু’জন আওয়ামী লিগের নেতা এলেন মন্দির চত্বরে। দু’জনেই হিন্দু। পুরোহিতদের ডেকে বললেন, সাবধানে থাকবেন। এই মন্দির জেহাদীগোর নিশানায় আছে। পুরোটাই আবার হিন্দুগো গ্রাম। পাশে সাঁওতালদের গ্রামও। ওখানে আবার গির্জা আছে। সংখ্যালঘু সকলেরই বিপদ।

প্রধান পুরোহিত শুধোলেন, আপনাদের এত বড় দল, এই আক্রমণ আটকাইতে পারলেন না?

শুনুন, মুসলমানগো জেহাদীরা ভুল বুঝাইয়াছে। তাই সকলে জোট বাঁইধা ওগোর দলে গিয়া যুক্ত হইয়াছে। এই কারণে আওয়ামী লিগ রাতারাতি দুর্বল হইয়া পড়িছে। শুনেছেন তো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাধ্য হইয়া পলাইয়া বাংলাদেশ ছাইড়া ভারতে চইলা গেছেন। হাল ধরবার এখন কেউ নাই।

এত বড় একটা ঘটনা ঘটতে যাইতেছে, আগে থেইকা উনি টের পাননি?

টের পাইবেন কী কইরা? বিরাট ষড়যন্ত্র। পিছনে আছে পাকিস্তান। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে আবার পূর্ব পাকিস্তান করতে চাইতেছে। এই ষড়যন্ত্রে আমেরিকাও মদত যোগাইতেছে। শুনতে পাইতেছি, নোবেলজয়ী ড. মহম্মদ ইউনুসকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসাইবার তোড়জোড় চলতেছে। লোকটা পাকিস্তানভক্ত, তালিবানপন্থী।

তার মানে, দেশটা কি আবার মুসলমানগো রাষ্ট্র হইয়া যাইবে?

হঁয়। তাইতো একদল জেহাদী, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়বার পর, উল্লাসিত হইয়া বঙ্গবন্ধুর মূর্তি লোহার হাতুড়ি দিয়া পিটাইয়া ভাঙতেছিল। সেনাবাহিনীর জওয়ানরাও কেরেন লইয়া আইল। এক্কেবারে ভাইঙা ফেলাইল। তারপর ভাঙা মুণ্ডটাকে জলে বারবার চুবাইয়া জুতা দিয়া মারতে থাকল। শোলোগান দিল, ‘জয় বাংলা’ মুর্দাবাদ, ‘পাকিস্তান’ জিন্দাবাদ। আর বলল, দেশ প্রকৃত স্বাধীন হইল। এই দৃশ্য কি চোখে দেখা যায়? আহা রে! জাতির পিতা কত কষ্ট কইরা দেশটাকে স্বাধীন কইরাছিল, বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিয়াছিল। আজ এমন পরিণতি ঘটবে, কন্যা তাঁর ঘুণাক্ষরেও ঠাওর করতে পারেনি।

সহকারী পুরোহিত আক্ষেপ করে বললেন, বাংলা ভাষার জন্য এত লড়াই-আত্মত্যাগ! সালাম, বরকত, রফিকরা প্রাণ দিল, তার কি কোন মূল্য নাই?

মূল্য থাকবে কেমন কইরা? আমেরিকা পেছন থেকে কলকাঠি নাড়তেছে। পরম বন্ধু পাকিস্তান বিষ ঢালতেছে। আমেরিকা বন্ধুকে কাজে লাগাইয়া টাকা-পয়সা, অস্ত্র, গোলাবারুদ দিয়া সাহায্য করতেছে। দুইখান জায়গা চাইয়াছিল ঘাঁটি গাড়বার জন্য, শেখ হাসিনার কাছে, যাতে ওই জায়গা দু’খান থেইকা ভারতের উপর নজর চালানো যায়, ভারতকে চাপে রাখা যায়। কিন্তু হাসিনা তা হইতে দেন নাই। এই রাগে আমেরিকা জেহাদীগো কাজে লাগাইল।  সেনাবাহিনীকেও পকেট কইরা ফেলল।

সন্ত্রস্ত যতীনদা জিজ্ঞেস করল, দাদাগো, আমাগো অবস্থা কী হইবে? কাছে খাবার নাই। গায়ের লোকেরা খাওয়াইতেছে। বারো ঘর উদ্বাস্তুরে কত দিন খাওয়াইতে পারবে?

আপনাগোর দুঃখ বুঝতে পারছি।  আমাগোও একই হাল। শহরে শহরে, গ্রামে-গঞ্জে নিত্যদিন মুসলমানেরা মিছিল  করতেছে। শোলোগান দিতেছে, ভারত তোগো আপন বাড়ি, চইলা যা তাড়াতাড়ি। আরও বলছে, এদেশে থাকতে হলে মুসলমান হইতে হইবে। মাইয়া-বউদের বোরখা পরতে হইবে। কপালে সিন্দূর পরা চলবে না।

দাদাগো, ভারত কি আমাগো আশ্রয় দিবে? আমাগো পাশে দাঁড়াইবে?

আমরা আবেদন জানাইবো। তোমরা এইখানে সাবধানে থাইকো, এই বলে চলে গেলেন।

                      কিছুদিন পর

দেশে নতুন সরকার গঠিত হল। সরকারের প্রধান হলেন নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনিস। রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা’র পরিবর্তে পাকিস্তানের জাতীয় সংগীত গাওয়া হল। অলিখিতভাবে বাংলাদেশ পুনরায় পূর্ব পাকিস্তানে পরিণত হল।  কঠোর তালিবানি শাসনও জোরদার হল।

বাতাসে শিউলির গন্ধ। শুরু হয়েছে দেবী দুর্গার বোধন। ইউনিসের অনুগামীরা ঘোষণা করল, দুর্গাপূজায় জাঁকজমক হইবে না, মাইক বাজানো, ঢাক বাজানো চলবে না। আকাশে-বাতাসে খালি ভাইসা বেরাইবে আজানের ধ্বনি।

একগুচ্ছ ছাপা-পত্র এল বাবা বিশ্বনাথের মন্দিরে। কামিনী তারই একটা হাতে পেয়ে এপিঠ-ওপিঠ পড়ে নিয়ে দুঃখ করল, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে হইবে না।

পুরোহিতরা বললেন, এই ফতোয়া আমরা মানব না। বাবার মন্দিরে বরাবর দুর্গা মায়ের পূজাও হয়। ঢাক-ঢোল, মাইক এখানে বাজবে।

মায়ের গলাটা জড়িয়ে ধরল কামিনী। মা, চলো এইখান থেইকা। আক্রমণ হইলে আমাগোই বেশি ক্ষতি হইবে।

মাগো, কোথায় যাইমু? এপাড়-ওপাড় দুই পাড়েরই ভাষা আমাগো এক। গেলে তো ওপাড়েই যাইতে হইবে।

পাশের আরেক উদ্বাস্তু মা কথাটা শুনতে পেয়ে শুধোল, কী বললা, দিদি? ওপাড় মানে তো পশ্চিমবাংলার কথাই বলতে চাইছো।  শুইনাছো, ওইখানেও কী চলতেছে?

মিনতির বুকটা ধড়ফড়িয়ে উঠল। কী চলতেছে গো?

পশ্চিমবাংলায়ও জেহাদীরা মাথাচাড়া দিয়া উইঠাছে। মণ্ডপে মণ্ডপে গিয়া শাসাইতেছে, পূজায় ঢাক বাজবে না, মাইক বাজবে না। ওইখানে মুসলমানেরা সংখ্যালঘু হইলেও বছর বছর যে হারে বাড়তেছে, একদিন ওই জায়গাও ওগোর কব্জায় চইলা যাইবে। রাজ্য  সরকার ওগোরে কিছু বলতেছে না। শুনতে পাই, এপাড়ের মুসলমানগো কাছে ওপাড়ের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড আছে। ভোট আইলে ওপাড়ে গিয়া ভোট দিয়া আসে। সরকারও জিতা যায় বারবার। ভেতরে ভেতরে এত যোগাযোগ কইরা ফেলাইছে, এইটা তো আমাগো কাছে ভয়েরই ব্যাপার। আরও একখান কথা, শুনলে তুমি চমকে উঠবা।

বুইন রে, মরণ যাদের নিত্যসঙ্গী, তাগো আবার ভয় কীসের?

জানোতো, জেহাদীগো এক নেতা ওপাড়ের সরকারকে বইলাছে, তিনি যদি রাজ্যটাকে ভারতের থেইকা মুক্ত কইরা নেন, সেই কাজে তারা সাহায্য করবে।

যা শুনাইলা দিদি, তাতে ওইখানে গিয়া  শান্তি হইবে কেমন কইরা? যে তিমিরে আছি, সেই তিমিরেই থাকুম। ওরে কামিনী,  ঐপাড়ে গিয়াও বাঁচুম না। যদি মরতেই হয়, নিজেগো দেশে থাইকাই মইরা যামু, সেই আমাগো শান্তি।

                        ক’দিন পর

দুর্গাপূজা আরম্ভ হল। জেহাদীরা নতুন ফর্মান জারি করল, দুর্গাপূজা হইবে না। ভয়ে অসংখ্য মণ্ডপে পূজা হলো না। তবে বিশ্বনাথের মন্দিরে মহা আড়ম্বরে পূজা আরম্ভ হল।

সপ্তমীর রাতে একযোগে দেশের শতাধিক স্থানে আক্রমণ হলো। এ যেন হিন্দু নিধনের কোরবানি।

বাবা বিশ্বনাথের মন্দিরেও ঘটে গেল নির্মম ঘটনা। অতর্কিত আক্রমণে বোমার আঘাতে যতীন মারা গেল। নিস্তব্ধ গ্রাম, যেন এক মহাশ্মশান। সেখানে আর্তনাদেও মানা।

পরদিন অষ্টমীর ভোরে কামিনীর মা-ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিল। শোকতপ্ত কামিনী ছোট ভাই শিবুকে বুকে জড়িয়ে ধরে নিঃশব্দে চোখের জল ফেলতে লাগলো। আশেপাশের সকলেই শোকে মুহ্যমান।

ei amader bangla

মর্মান্তিক খবরটা পেয়ে আওয়ামী লিগের প্রাক্তন এক হিন্দু সাংসদ লুকিয়ে ছুটে এসেছেন ঢাকা থেকে। কামিনী আর তার ভাইকে দেখে হতবাক হয়ে গেলেন। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, মা কামিনী, তুমি আমার মাইয়ার মতো। ছোট ভাইটার মুখের দিকে তাকাইয়া তোমাকে বাঁচতে হইবে। সব দুঃখ-ব্যথা, শোক-তাপ পিঞ্জরে বহন কইরা চলো আমরা ভারতে চইলা যাই। আমরা যে নিজভূমে পরবাসী। হাজার হাজার হিন্দু প্রাণ বাঁচাইতে রওনা দিয়াছে। মানবিক ভারত সরকার নিশ্চয়ই আমাগো আশ্রয় দিবে। হাতের খবরের কাগজখান খুলে বড় বড় অক্ষরে হেডলাইন দেখিয়ে বলল, খুশির খবর মা। হিন্দুত্বের পূজারি ‘মোহন ভাগবত’  কইয়াছেন, হিন্দুগো ঐক্যবদ্ধ হইতে হইবে। এই বাংলাদেশের হিন্দুগো লাইগা সমবেদনা প্রকাশ কইরাছেন। উদার মনের মহামানব একথাও কইয়াছেন যে, হিন্দুত্ব কোন জাতি নয়, ধর্ম নয়, এটা হইল একটা জীবন পদ্ধতি। এই মহান আদর্শের কথা শুইনা আর বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, হিন্দুরা ধর্মনিরপেক্ষ। তাদের কোন ভেদাভেদ নাই, উঁচু-নিচু নাই। সবাইকে আপন বইলা ভাবতে পারে। মুসলমানরা ওই দেশের শত্রু নয়, ভাই ভাই। বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ভাই ভাই। এই একতার কথা তো রবীন্দ্রনাথ, নজরুলও কইয়া গেছেন। এই দেশে আমরাও তাই ভাবতাম। আমাগো বাপ-জ্যাঠারা, আব্বু-চাচারা হাতে-হাত, কাঁধে-কাঁধ মিলাইয়া মুক্তিযুদ্ধে সামিল হইয়াছিল। আর এখন মুসলমানরা আমাগো শত্রু ভাইবা দেশ ছাড়া করতেছে। বড় দুঃখ লাগে।

চলো, মা আমার। সীমান্তে দাঁড়াইয়া চিৎকার কইরা কইব, ভারত, তুমি সুমহান। বড় অসহায় আমরা, আমাগো আশ্রয় দাও।

কামিনী অশ্রুনয়নে ভাইকে নিয়ে সহস্র উদ্বাস্তুর মিছিলে পা মেলাতে থাকলো। বিদায়! জন্মভূমি। বিদায়! বাংলাদেশ।

…………………………………………………….

error: <b>Alert: </b>Content selection is disabled!!